আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হতে যাওয়া ম্যাচের দলে জায়গা পেয়েছেন তাওহিদ হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ৩৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পরই জাতীয় টেস্ট দলে ফিরেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
হৃদয়ের প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে পচেফস্ট্রুমে দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচে ৪৮১ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ৩৫০ রান করেন তিনি। ইনিংসটি সাজানো ছিল ২৭টি চার ও ১০টি ছক্কায়। দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে বড় রান করার পাশাপাশি ইনিংসটি ছিল তাঁর ব্যাটিং সামর্থ্যেরও বড় প্রমাণ।
এই ৩৫০ রানের ইনিংসের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড গড়েন হৃদয়। এর আগে রেকর্ডটি ছিল তামিম ইকবালের। বাংলাদেশের সাবেক এই ওপেনার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৩৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। হৃদয় সেই রেকর্ড ১৬ রান ছাড়িয়ে নতুন মাইলফলক তৈরি করেন।
তাঁর কীর্তির পরিধি আরও বড়। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো বিদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসও এখন হৃদয়ের দখলে। এর আগে ১৯৪৮ সালে ইংল্যান্ডের ডেনিস কম্পটন দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩০০ রান করেছিলেন। ৩৫০ রানের ইনিংস খেলে হৃদয় সেই দীর্ঘদিনের রেকর্ডও পেছনে ফেলেছেন।
বাংলাদেশ ‘এ’ দলের জন্যও ম্যাচটিতে হৃদয়ের ইনিংস ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে দলটি প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৬৭৬ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল ৫১২ রান করে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র হয়। তবে দুই ম্যাচের চার দিনের সিরিজে বাংলাদেশ ‘এ’ দল ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের কাছে ইনিংস ও ৪১৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ।
জাতীয় দলে হৃদয়ের টেস্ট ক্যারিয়ার অবশ্য এখনো শুরুর পর্যায়ে। গত জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় তাঁর। সেই ম্যাচের দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর সংগ্রহ ছিল মাত্র ১২ রান। এরপর অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট দলে তাঁকে রাখা হয়নি। ফলে জাতীয় দলের বাইরে থেকেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পান তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার সফর সেই সুযোগকে বড় সাফল্যে পরিণত করেছে। ৩৫০ রানের অপরাজিত ইনিংসের মাধ্যমে হৃদয় শুধু রেকর্ডই গড়েননি, নির্বাচকদের কাছেও নিজের টেস্ট সামর্থ্যের নতুন প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে ৪৮১ বল খেলে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করার বিষয়টি লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর ধৈর্য ও ইনিংস গড়ার সক্ষমতার দিকটি সামনে এনেছে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে তাই হৃদয়ের ওপর আলাদা নজর থাকবে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেকে ব্যাট হাতে সাফল্য না পেলেও এবার তিনি দলে ফিরছেন বড় একটি ইনিংসের আত্মবিশ্বাস নিয়ে। তবে ‘এ’ দলের ক্রিকেটে পাওয়া সাফল্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সরাসরি ধরে রাখা সহজ নয়। নতুন প্রতিপক্ষ, নতুন কন্ডিশন এবং টেস্ট ক্রিকেটের চাপ—সবকিছুর মধ্যেই তাঁকে নিজের জায়গা তৈরি করতে হবে।
বাংলাদেশের জন্যও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে লাল বলের ক্রিকেটে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ থাকবে দলের সামনে। একমাত্র টেস্টটি ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর একই সফরে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে তিনজাতির ওয়ানডে সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে।
হৃদয়ের জন্য আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টটি একই সঙ্গে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্গঠনের সুযোগ। অভিষেকের পর বাদ পড়া, ঘরোয়া ও ‘এ’ দলের ক্রিকেটে ফিরে আসা এবং এরপর রেকর্ডগড়া ৩৫০ রানের ইনিংস—এই পথ পেরিয়েই আবার জাতীয় দলের দরজা খুলেছে তাঁর জন্য। এখন দক্ষিণ আফ্রিকার সেই অসাধারণ ইনিংসের আত্মবিশ্বাস আন্তর্জাতিক টেস্টে কতটা কাজে লাগে, সেটিই হবে দেখার বিষয়।